নিরাপদ রাখুন সোশ্যাল মিডিয়া আইডি

 

একে তো অত্যাধুনিক যুগ। তার উপরে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এই ডিজিটাল বাংলাদেশে আট থেকে আশি প্রায় সকলের কাছেই রয়েছে একটি করে স্মার্টফোন। আর সেই স্মার্টফোন থেকেই চলে সোশ্যাল মিডিয়া।

WhatsApp, Facebook থেকে Twitter বা YouTube, Instagram থেকে LinkdIn কখনও কাজের ক্ষেত্রে কখনও আবার পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগই হোক বা একান্তই চাপে পড়ে চাকরির খোঁজ, সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের একটি বিশেষ অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে হালফিলে। এসব সোশ্যাল মিডিয়াই যেমন আমাদের উপকারও করে, ঠিক তেমনই আবার অনেক সময়ে অপকারের কাজেও শামিল হয় অজান্তেই। ২০১৯ সালে Facebook-এর বিরুদ্ধে ইউজারদের তথ্য চুরির অভিযোগ উঠেছিল। আর এই হাতেগোনা কয়েক দিন আগেই ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকেই। আর এই হ্যাক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি যথেষ্টই উদ্বেগের। কারণ সোশ্যাল প্রোফাইল একবার হ্যাক হয়ে গেলে হ্যাকারদের হাতের নাগালে চলে আসে অনেক গোপনীয় তথ্য। সেই সোশ্যাল মিডিয়াকেই কী ভাবে হ্যাকার হানা থেকে নিরাপদে রাখবেন, জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের শেয়ার করা কিছু টিপস।


কঠিন পাসওয়ার্ড বাছাই করুন
বারংবারই অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কথা বলে এসেছেন টেক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কী ভাবে সেই অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বজায় রাখবেন? প্রথমত সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। মোটামুটি বড় নম্বর এবং বিশেষ চিহ্ন— (#$*) মিলিয়ে পাসওয়ার্ড দিতে হবে। তবে অনেকেই আবার বড় নম্বর বলতে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে থাকেন। সেটা এক্কেবারেই করবেন না। কারণ আপনার ফোন নম্বর চাইলেই, মুহূর্তে জোগাড় করে নিতে পারে হ্যাকাররা। পাসওয়ার্ড একান্তই ব্যক্তিগত, সুতরাং এর গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে আপনাকেই। পরিবার, বন্ধু এবং কাছের কারও সঙ্গেই এটি শেয়ার করা যাবে না। আর রাস্তাঘাটে যতটা সম্ভব Facebook বা Twitter বা যে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা বন্ধ করুন।


টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন
অনলাইনে বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার জন্য দু’স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করতে পারেন। এতে কোনও ভাবেই হ্যাক হবে না আপনার সোশ্যাল মিডিয়া। এই ফিচার চালু থাকলে নতুন কোনও ডিভাইস থেকে লগ ইন করার সময় পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি অ্যাকাউন্টে যুক্ত মোবাইল নম্বরে আসা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) পাঠানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলের জন্য এই পদ্ধতি মেনে চলতে পারলে হ্যাকার হানা থেকে নিস্তার মিলবে।


ভালো ভাবে যাচাই করার পরই বন্ধুত্ব পাতান
সামাজিক মাধ্যমে বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি। কারণ কে কোন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা বোঝা যায় না। এছাড়াও হ্যাকারদের চরও ফাঁদ পেতে বসে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সুতরাং অপরিচিত কারও সঙ্গে বন্ধু পাতানোর আগে ভালো করে যাচাই করে নিতে হবে। সন্দেহ থাকলে ওই পথে হাঁটাই চলবে না। অনেক সময়ে আবার মিথ্যা পরিচয়ে আপনার বন্ধু হয়ে কোনও হ্যাকার ঢুকে আপনার টাইমলাইনে স্প্যাম ছড়াতে পারে, আপনাকে বিব্রতকর পোস্টে ট্যাগ করতে পারে বা হ্যাকিংয়ের মেসেজ অবধি পাঠাতে পারে।


সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলুন
যদি ঘনিষ্ঠ কোনও বন্ধু বা Facebook-এ কোনও বন্ধুর কাছ থেকে Email বা Messenger-এ কোনও বার্তা পান বা কোনও লিংক শেয়ার করা হয়, যা হয়তো তার স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মেলে না, সবচেয়ে ভালো হবে সেটায় ক্লিক না করা বা সাড়া না দেওয়া। কেউ হয়তো লিখতে পারে যে, সে কোথাও বেড়াতে গিয়ে বিপদে পড়েছে অথবা আপনার Messenger-এ এমনই একটি লিংক পাঠিয়েছে, যার আসলে সন্দেহজনক। এ ক্ষেত্রে তাকে আলাদাভাবে অ্যাকাউন্টে নক করে বা বার্তা পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এ ধরনের সন্দেহজনক কিছু দেখলে রিপোর্ট করার পরামর্শ দিচ্ছে Facebook।


আবেগের বশে অতিরিক্ত শেয়ার বন্ধ করুন
আবেগি হয়ে অতিরিক্ত পোস্ট শেয়ার করা যাবে না Facebook বা অন্য কোনও সোশ্যাল মাধ্যমে। আগে ভালোভাবে যাচাই করে, তারপরই তা শেয়ার করবেন। Facebook ও Instagram-এ পোস্ট করার সময় বন্ধুকে ট্যাগ বা লোকেশন সেট করার আগে কোনটি ব্যক্তিগত আর কোনটি সবার জন্য, তা ভালো করে দেখে নিতে হবে। কোনও তৃতীয় পক্ষ যাতে আপনার তথ্য ব্যবহার করে সুবিধা নিতে না পারে বা আপনার অবস্থানগত তথ্য জানাজানি হয়ে গেলে আপনাকে যেন কোনও ঝামেলায় না জড়িয়ে পড়তে হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত সংবেদনশীল ছবি কিংবা ভিডিয়ো আপলোড না করাই ভালো। অ্যাডাল্ট কোনও কনটেন্ট আপলোড, শেয়ার বা ইনবক্সে পাঠানো এক্কেবারেই চলবে না। কেউ পাঠালেও তাতে ক্লিক করবেন না।


রিকভারি ইমেল—
অ্যাকাউন্ট রিকভারি অপশনে মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে Email আইডিই ব্যবহার করা উচিত। এতে কোনও কারণে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলেও Email মারফত তার নোটিফিকেশন চলে আসবে। এমনকী চাইলে দ্রুততম সময়ে তা ঠেকানোর সুযোগও পাওয়া যাবে। যদি কোনও ক্রমে আপনার Facebook বা Twitter বা Instagram প্রোফাইল হ্যাক হয়ে যায়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন।


সূত্রঃ ইত্তেফাক

Post a comment

0 Comments