ডিজিটাল ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা চালুর পরিকল্পনা করছে চীন

দেশের প্রধান শহরগুলোতে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করতে চলেছে চীন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক মাস ধরে একটি ডিজিটাল মুদ্রা তৈরির চেষ্টা করছিল। এটি কোনো বড় অর্থনীতির দেশে সরকার পরিচালিত প্রথম ডিজিটাল মুদ্রা।

ই-আরএমবি হিসেবে পরিচিত সেনঝেন, সুজোও, চেংদুসহ কয়েকটি শহরে এই নতুন ডিজিটাল মুদ্রার পরীক্ষামূলক আদানপ্রদান প্রথমে শুরু হবে। এ ছাড়াও দক্ষিণ বেইজিং, সিওঙআন শহরেও এই ডিজিটাল মুদ্রা চালু করা হবে। এই শহরগুলোতে ২০২২ সালে বেইজিং উইন্টার অলিম্পিকসের কয়েকটি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এই ডিজিটাল মুদ্রা কিছু সরকারি কর্মচারীদের এপ্রিল-মাসের বেতন প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হবে। সুজোও শহরে ভর্তুকিযুক্ত বাস পরিষেবার এই মুদ্রা লেনদেন হবে, কিন্তু সিওঙআন শহরে খাদ্যসামগ্রী ও খুচরা ক্রয়-বিক্রয়ে এই মুদ্রা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও গ্লোবাল গভর্নমেন্ট ফোরাম নামের একটি অনলাইন পোর্টাল জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডস, স্টারবাকস এবং সাবওয়েসহ ১৯টি খুচরা বিক্রেতাদের জিয়নগানের নতুন অঞ্চলে ডিজিটাল ইউয়ান পরীক্ষা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে স্টারবাকস সরাসরি না করে দিয়েছে। কিন্তু অন্যগুলোর খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

চীনের পিপলস ব্যাংক অব চায়না এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, স্বল্প মেয়াদে ব্যবহারের জন্য খুব বড় মাত্রায় এই ডিজিটাল মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে না। আপাতত বাজারে যে অঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার জোগান রয়েছে তাতে মুদ্রাস্ফীতি হওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই।

বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য ডলারের বিপরীতে আরো একটি মুদ্রা দাঁড় করাতে চাইছে চীন। আর ডিজিটাল মুদ্রাই হলো তার একটি। চীনের এই ডিজিটাল মুদ্রার প্রবর্তনটিকে অনেকেই ডলারের বিরুদ্ধে লড়াই করার অস্ত্র হিসেবে দেখছে। চাইনা ডেইলিতে প্রাকাশিত এক মতামতবিষয়ক নিবন্ধতে বলা হয়, একটি সার্বভৌম ডিজিটাল মুদ্রা ‘ডলার বন্দোবস্ত ব্যবস্থা’র কার্যকরী বিকল্প। কোনো দেশ বা সংস্থার পর্যায়ে যে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞার বা বর্জনের হুমকির প্রভাবকে ঠেকাতে পারে। বিশ্বব্যাপী মুদ্রা বাজারগুলোতে রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে বর্জানের ঝুঁকি কমাতে পারে।

এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ব্লকচেইন চালু করেছে চীন। ব্লকচেইনবেইজড সার্ভিস নেটওয়ার্ক (বিএসএন) নামের এই ব্লকচেইন নেটওয়ার্কটি এপ্রিল মাস থেকে চালু হয়েছে। বিএসএন ভবিষ্যতের বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অর্থনীতিকে অনুপ্রেরণা যোগাবে। ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেনে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে এর কারণে। ব্লকচেইনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্টের ডলারের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে চীন। এমনটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদনে।

২০১৪ সাল থেকে চীন ডিজিটাল মুদ্রাকে মার্কিন ডলারের মারপ্যাঁচ থেকে সরে যাওয়ার উপায় হিসেবে দেখে আসছে। এরপর থেকে ডিজিটাল মুদ্রা প্রযুক্তি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে দেশটি। আর বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কৌশলগত লক্ষ্য হিসেবে দেখছে।

২০১৬ সালের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলোতে চীন উন্নত ব্লকচেইনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। বিটকয়েনের মতো জনপ্রিয় ডিজিটাল মুদ্রার পেছনে প্রযুক্তি ব্যবহার করা জন্য পরিকল্পনা করে। এরপর ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্লকচেইনকে ‘অবশ্যই’ উন্নত করার জন্য পলিটব্যুরোতে প্রস্তাব রাখেন। পরে গত মাসে চীনজুড়ে চালু হয়েছে ব্লকচেইনের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক বিএসএন। আর চলতি মাসেই চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল মুদ্রা।

সূত্র: দ্য উইক।

Post a comment

0 Comments