ফেসবুকে নিরাপদ থাকা আপনার হাতেই


ফেসবুক কমবেশি সবাই ব্যবহার করেন। প্রায় শোনা যায় অনেকে প্রোফাইল বা ফেসবুক আইডি বেদখল (হ্যাকড) হয়ে গেছে। কিছু নির্দেশনা মেনে চললে আইডিগুলো হ্যাকড হওয়া থেকে অনেকটাই নিরাপদ থাকবে।

*  ফেসবুকে আপনার জন্মতারিখ এবং সালটি অনলি মি করে রাখুন। কোনো অবস্থায় আপনার পাসপোর্ট আকারের ছবি ও জন্মতারিখ ফেসবুকে পাবলিক করে রাখবেন না।

*  কখনোই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডি), স্মার্ট কার্ড এবং বৈধ কোনো আইডি কার্ড ফেসবুকে দেবেন না।

*  পাসপোর্টের তথ্য (ইনফরমেশন পাতার ছবি) বা ভিসার ছবি আপলোড করা একেবারেই ঠিক নয়।

*  আপনার অ্যাকাউন্টে এমন একটি ই–মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর ব্যবহার করবেন, যেটি সচরাচর আপনি কারও সঙ্গে শেয়ার করেন না।

ফেসবুকে থাকা সব নিরাপত্তা সুবিধা (ফিচার) অন করে রাখুন।

*  অবশ্যই বিশ্বস্ত কমপক্ষে পাঁচজন বন্ধু যুক্ত করে রাখবেন।

*  প্রোফাইল পিকচার গার্ড ব্যবহার করা ভালো। যাঁরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) রাখতে চান, তাঁরা প্রোফাইল লক অপশন ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে শুধু আপনার বন্ধু তালিকায় (ফ্রেন্ড লিস্ট) থাকা বন্ধুরা আপনি যা দেবেন, তা দেখতে পারবেন।

*  কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করবেন। পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সংখ্যা, চিহ্ন এবং শব্দের সম্মিলনে বানালে বেশ কঠিন হয়। ডিকশনারি ওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

*  অপরিচিত কারও দেওয়া লিংকে ক্লিক করবেন না।

*  তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে না।


ব্ল্যাকমেল ও বুলিং নিয়ে সাবধান

একটি অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা সবাই। সম্পর্কগুলোর গভীরতা কমছে, একই সঙ্গে বাড়ছে অবিশ্বাস করার প্রবণতা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার কারণে ঘটছে নানা ধরনের ব্ল্যাকমেল এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো ঘটনা। সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যেন তার কারণে পরে ক্ষতিগ্রস্ত না হতে হয়, তার জন্য কিছু ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবে।

*  কোনো অবস্থাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (সোশ্যাল মিডিয়া) অ্যাকাউন্ট এবং ই–মেইলের পাসওয়ার্ড আদান–প্রদান করা যাবে না।

*  সংবেদনশীল ছবি, যা ছড়িয়ে গেলে পরে সামাজিক বা ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এমন ছবি আদান–প্রদান থেকে বিরত থাকুন।

*  গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা তৃতীয় ব্যক্তি জানলে আপনি ব্যাক্তিগত ও পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, এমন কিছু আদান–প্রদানে বিরত থাকুন।

*  অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে সব নিরাপত্তা সুবিধা চালু (অন) রাখুন।

*  নিজের মুঠোফোন অন্য কাউকে ব্যাবহার করতে দেবেন না।

*  ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে গেলে বা হুমকি দিলে সঙ্গে সঙ্গে কাছের থানাকে জানান।

*  সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে যদি অপর পক্ষ আপনাকে পুরাতন ছবি বা কথোপকথন পাবলিক করে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখায় বা হুমকি দেয় কিংবা পরিবারের বিভিন্ন মানুষকে ইনবক্সে সেগুলো পাঠিয়ে দেয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নিন।

*  ভুয়া (ফেক) আইডি দিয়ে মানহানিমূলক তথ্য, স্ট্যাটাস বা ছবি প্রচার করলে সেই আইডির লিংকসহ স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।

যেকোনো ধরনের জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করতে পারেন। এতে কল করতে কোনো পয়সা খরচ হয় না। 

লেখক: ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশনের (ক্র্যাফ) সভাপতি

Source: Prothom Alo

Post a comment

0 Comments